ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) সাপ্তাহিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত এটি ৬২ হাজার ৫৮৭ কোটি ডলারে নেমেছে। টানা ছয় সপ্তাহ ধরে কমছে রিজার্ভ। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।
প্রতিবেদন অনুসারে, ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৮৭২ কোটি ডলার কমে ৬২ হাজার ৫৮৭ কোটি ১০ লাখ ডলার হয়েছে। এটি ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে রিজার্ভ রেকর্ড ৭০ হাজার ৪৮৯ কোটি ডলারে পৌঁছানোর পর এটি ক্রমে কমে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রুপির বিনিময় হারের তীব্র পতন প্রতিরোধ করতে রিজার্ভ ব্যাংকের নেয়া পদক্ষেপের কারণে রিজার্ভ কমছে।
ভারতীয় রুপি বর্তমানে মার্কিন ডলারের বিপরীতে সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৮৬ রুপির সামান্য বেশি পাওয়া যাচ্ছে। আরবিআইর সাম্প্রতিক তথ্যানুসারে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সবচেয়ে বড় অংশ বৈদেশিক মুদ্রা সম্পদ (এফসিএ) বর্তমানে ৫৩ হাজার ৬০১ কোটি ১০ লাখ ডলার। স্বর্ণ রিজার্ভ ৬৭৮ কোটি ৮৩ লাখ ডলার, যা আগের হিসাবের তুলনায় ৭৯ কোটি ২০ লাখ ডলার বেড়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোয় রিজার্ভ কমা সত্ত্বেও আরবিআই ডিসেম্বরে জানিয়েছে, দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১১ মাসের বেশি আমদানি এবং ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বিদেশী ঋণের ৯৬ শতাংশ পূরণে যথেষ্ট। আরবিআই তাদের বুলেটিনে উল্লেখ করেছে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, যা রিজার্ভ পর্যাপ্ততার (রিজার্ভ অ্যাডাকুয়েসি) পরিমাপকেও স্থিতিশীল অবস্থায় আছে।
২০২৩ সালে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে প্রায় ৫ হাজার ৮০০ কোটি ডলার যোগ করেছে। আগের বছর রিভার্জ প্রায় ৭ হাজার ১০০ কোটি ডলার কমে গিয়েছিল।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা আর্থিক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সংরক্ষিত সম্পদ, যা প্রধানত মার্কিন ডলারের মতো রিজার্ভ মুদ্রায় রাখা হয়। এছাড়া কিছু অংশ ইউরো, জাপানি ইয়েন ও পাউন্ড স্টার্লিংয়েও থাকে। আরবিআই বৈদেশিক মুদ্রার বাজারের ওপর নজর রাখে এবং রুপির বিনিময় হারের অত্যধিক অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে শুধু বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হস্তক্ষেপ করে।
রিজার্ভ ব্যাংক প্রায়ই ডলার বিক্রি করে রুপির বিনিময় হারের তীব্র পতন ঠেকায় ও তারল্য ব্যবস্থাপনা করে। এক দশক আগে ভারতীয় রুপি এশিয়ার সবচেয়ে অস্থির মুদ্রাগুলোর একটি ছিল। কিন্তু বর্তমানে এটি সবচেয়ে স্থিতিশীল মুদ্রাগুলোর মধ্যে একটি। আরবিআই যখন রুপি শক্তিশালী হয় তখন ডলার কিনে এবং রুপি দুর্বল হলে ডলার বিক্রি করে। এ কৌশল বিনিয়োগকারীদের কাছে ভারতীয় সম্পদের আকর্ষণ বাড়িয়ে তুলেছে।